Part 1

অবশেষে কোন সমঝোতা ছাড়ায় শেষ হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধ শেষ হবার একটি মাত্র কারন ছিলো, আর তা হলো বিশ্বব্যাপী অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত শেষ হয়ে যাওয়া। তবে যতটা আশংকা করা হচ্ছিল, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তুলনামুলক তার চেয়ে কম হবার কারন ছিলো মূলত দুইটা।


প্রথমত, বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী সাধারন মানুষের ব্যাপক বিক্ষোভ ও অবরোধের মুখে প্রতিটা দেশের সেনাবাহিনী তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। আর এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় বাংলাদেশ থেকে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে সেনাবাহিনী কতৃক সাধারন মানুষের দাবি মেনে নেবার ঘটনা নতুন কিছু নয়। যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্র, সাধারন মানুষ সেনাবাহিনীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের দাবি ছিলো, বেসামরিক স্থাপনাকে যেন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানো না হয় (এই বিষয়টি ইতিপূর্বে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনে উত্থাপিত হবার পর বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তা মেনে নিতে সম্মত হয়)। অবশেষে বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী সাধারন মানুষের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় প্রতিটা দেশের সেনাবাহিনী। এর পরিণামে, সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোতে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ফলে, একদিকে বিশ্বব্যাপী অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত ধ্বংস হয়েছে, আর অন্য দিকে অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায়, নতুন কোন যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।


দ্বিতীয়ত, পারমানবিক শক্তিধর দেশগুলিতে সাধারন মানুষ পারমানবিক স্থাপনাগুলো ঘিরে রাখায়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলি পারমানবিক অস্ত্র ব্যাবহার করতে ব্যর্থ হয়। এমতাবস্থায়, বিশ্বব্যাপী পারমানবিক অস্ত্রের মজুত থাকলেও, তা উৎক্ষেপনের মত কোন ব্যাবস্থা নেই। এই যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী সাধারন মানুষের জয় হলেও, সামরিক শক্তিতে দুর্বল হয়ে পড়েছে পুরো মানব সভ্যতা। 


এই অবস্থায় হিংস্র বন্য প্রাণীদের সংঘবদ্ধ আক্রমন প্রতিহত করার মত সক্ষমতা মানুষের নেই। বহির্বিশ্ব থেকে আগত কোন এলিয়েন যদি মানব সভ্যতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে আক্রমন শুরু করে, তাদেরকে প্রতিহত করার মত কোন অস্ত্র বর্তমানে মানুষের হাতে নেই। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা হারিয়েছে বলে মনে করছেন বুদ্ধিজীবী সমাজ। আর এই অবস্থার জন্য তারা দায়ী করছেন বিশ্বনেতাদের।


বিশ্বব্যাপী পুনরায় অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যপ্ত মজুত গড়ে তোলার জন্য তাগাদা দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞবৃন্দ। তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে, মানুষের তৈরি অস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে ব্যাবহার না করার বিষয়ে ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে, বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মানব সভ্যতার এই ক্রান্তিলগ্নে যেন কোন এলিয়েনের আগমন না ঘটে, সবার মনে এমন প্রত্যাশা থাকলেও, বিশ্বব্যাপী সবার মাঝে কিছুটা আতংক, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ও অসহায়ত্বের মানসিকতা পরিলক্ষীত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী পুনরায় অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুত গড়ে না ওঠা পর্যন্ত, মানব সভ্যতাকে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে। 


মানুষের মত বুদ্ধিমান প্রাণী এভাবে নিজেদের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে তা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। এই জন্য আমাদের সবারই হয়তো কিছু না কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে, শেষ পর্যন্ত মানব সভ্যতা কতৃক আর্জিত প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও জ্ঞানভান্ডার রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও, মানুষ কি শেষ পর্যন্ত তার অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারবে ? নাকি ধ্বংস হয়ে যাবে কোন এলিয়েনের আক্রমনে ?

(End of the news)


Family conversation between Mother (Social worker), Daughter (MBBS student, Dhaka Medical College) and Father (Professor, Jahangirnagar University, Former astronaut @ NASA).

মায়ের বক্তব্য:

অবশেষে এই যুদ্ধে সাধারন মানুষেরই জয় হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অস্ত্র ভান্ডার ধ্বংস হওয়ায়, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বে আর যেন ধ্বংসাত্মক মারনাস্ত্র তৈরি করা না হয়, এই বিষয়ে বিশ্বনেতাদের ঐক্যমত্যে পৌছানো উচিৎ।

মেয়ের বক্তব্য:

মা, তুমি ঠিকই বলেছ। বিশ্বে যত অস্ত্র বানানো হয়েছে, তা কেবল মানুষ মারার জন্যই ব্যাবহার করা হয়েছে। অস্ত্র তৈরিতে অর্থ ব্যয় না করে বরং চিকিৎসা প্রযুক্তিতে এই অর্থ ব্যয় করলে, মানুষ অমরত্ব অর্জন করতে পারে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনে এই অর্থ ব্যয় করলে, বিশ্বের কোথাও অনাহারে মানুষকে মরতে হতো না। বিশ্বের প্রতিটা মানুষের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মত মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো সম্ভব হতো।

বাবার বক্তব্য:

তোমরা দুইজনে ঠিকই বলেছ। বিশ্বের শান্তিকামী মানুষেরা তাই চায়। যুদ্ধ মানেই ব্যাপক প্রাণহানি। যুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দেন তারা নিরাপদেই থাকেন, অথচ সাধারন মানুষদেরই ক্ষয়ক্ষতি ও প্রানহানি বেশি হয়। যুদ্ধের বিকল্প কোন কিছু, আমাদের ভাবা উচিৎ। তবে অস্ত্রের উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে আমি তোমাদের সাথে একমত হতে পারছি না। বরং আমি মনে করি, বিশ্বব্যাপী আরো ব্যাপক বিধ্বংসী অত্যাধুনিক মারনাস্ত্র তৈরির গবেষনা চলমান থাকা উচিৎ। অনন্ত অসীম মহাবিশ্বে আরো কোন সভ্যতা আছে কিনা, তা আমরা জানি না। তারা শান্তিপ্রিয় না হিংস্র, তাও আমরা জানি না। তারা উন্নত নাকি অসভ্য, তাও আমাদের জানা নাই। যদি আমাদের চেয়ে উন্নত কোন সভ্যতা থাকে, তাহলে তারা আমাদের অজান্তেই মানব সভ্যতার প্রযুক্তি ও সক্ষমতা সম্পর্কে ধারনা ও তা মোকাবেলা করার মত প্রস্তুতি নিয়েই পৃথিবীতে আগমন করবে।

আর যদি মহাবিশ্বে আমাদের চেয়ে উন্নত সভ্যতা নাও থাকে, তার মানে এই নয় যে তারা পৃথিবীতে পৌছাতে পারবে না। মহাবিশ্বে এমন কোন প্রজাতি যদি থাকে যারা বায়ুশুন্য মহাকাশে ইচ্ছামত ঘুরে বেড়াতে সক্ষম এবং তারা যদি হিংস্র প্রকৃতির হয়, তাহলে আমাদের জন্য কি পরিণতি অপেক্ষা করছে, তা একবার ভেবে দেখ। পৃথিবীপৃষ্ঠে খোলা আকাশের নিচে আমরা বসবাস করি। তোমরা কি বাড়ির দরজা, জানালা খোলা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে ? অন্তহীন উন্মুক্ত মহাবিশ্বে, নিরস্ত্র, নিরিহ মানব সভ্যতাকে কেমন যেন অসহায় বলে মনে হচ্ছে। মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো অসহায়, নিরিহ মানব সভ্যতার নিরাপত্তা কে দেবে, যদি কোন হিংস্র এলিয়েনের আগমন ঘটে ?

(তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে গোটা মানব সভ্যতা শেষ করে ফেলেছে তাদের অস্ত্র ভান্ডার। এবার কোন এলিয়েনের আক্রমন তারা কিভাবে মোকাবেলা করবে ?)


কিছুদিন পর:

ব্রেকিং নিউজ: গ্রহানুর আঘাতে ধ্বংস হতে চলেছে বাংলাদেশ।


তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্বব্যপী অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস হবার পর মানুষ যখন নিরাপত্তাহীনতায় চরম আতংকে দিন যাপন করছে, তখন সবার আশংকাই সত্যি হলো। তবে কোন হিংস্র প্রাণী কিংবা এলিয়েন নয়, এবার মানব সভ্যতা ধ্বংসের জন্য পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি গ্রহানু, যার আঘাত হানার সম্ভাব্য গন্তব্যস্থল হলো বাংলাদেশ। পুরো বিশ্ব যখন যুদ্ধ পরবর্তী মন্দা পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের জন্য মহা বিপর্যয়ের এই খবর প্রকাশ করল নাসা। প্রায় ছয় মাসব্যপী গতিপথ পর্যবেক্ষণের পর নিখুত গাণিতিক হিসাব ও AI পরিচালিত Super Computer simulation এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে এই খবর প্রকাশ করল নাসা। চলতি বছর ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে গ্রহানুটি। এই আঘাতের ফলে কয়েক কিলোমিটারব্যপী বিশাল গর্ত সৃষ্টি হতে পারে, আর ধ্বংসলীলা ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা দেশব্যপী।


 গ্রহানুটি যদি বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়ে, তাহলে যে সুনামী সৃষ্টি হবে তার ঢেউ হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত পৌছে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীকে, অন্য কোথাও সরিয়ে নেবার সুযোগ না থাকায়, ব্যাপক প্রাণহানির আশংকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নাসার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি। কারন আমেরিকা সরকারের পক্ষ থেকে …… (অসমাপ্ত)


এই খবর শোনার পর ভয়ে ও আতংকে বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব করায়, বৃদ্ধ মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে আতংকগ্রস্ত হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় আরো কিছু মানুষকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা ছিলো আশংকাজনক। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দ্রুত ভীড় বাড়তে থাকে। ডাক্তারদের পক্ষে এত রোগী একসঙ্গে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু রোগী CCU, ICU ও জরুরী সেবা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করে। এভাবে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় দেশব্যাপী ভয়, আতংক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ভয়, আতংক ও চরম হতাশা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে ধৈর্য ধারন করে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও বাস্তবে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, হতাশা ও আতংক দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। কারন গ্রহানু ধ্বংসের প্রযুক্তি বাংলাদেশের নেই আর এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তা অর্জন করাও বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।


NEXT: PART-2


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন